কিশোরগঞ্জ শহর
আন্দোলনকারীদের মিছিলে আ.লীগের ধাওয়া-সংঘর্ষ
ছবি-সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৪ | ০২:৫১
কিশোরগঞ্জ শহরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সংঘর্ষে এক নারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শহরের কয়েকটি হাসপাতাল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন– সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মবিন (৩২), জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুর বাসার গৃহকর্মী ও সদর উপজেলার বীরদামপাড়া গ্রামের আলম মিয়ার স্ত্রী অঞ্জনা বেগম (৩৫), তাঁর বাসার দারোয়ান ও সদর উপজেলার যশোদল এলাকার মো. জুলকার (৫০) এবং শহরের নিউটাউন এলাকার সবজি বিক্রেতা জুয়েল মিয়া (৩৫)। এ ছাড়া পুলিশের ছোড়া সাউন্ড গ্রেনেডের আওয়াজে শহরের কালিবাড়ী এলাকার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী রুবেল আব্দুল্লাহ (৩৫) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। মবিনকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক দিদার মাহমুদ। আর জুয়েলকে শোলাকিয়া এলাকার পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের এক কর্মী।
সদর হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. একরাম উল্লাহ জানিয়েছেন, অঞ্জনা ও জুলকারের শরীর পোড়া ছিল। এ ছাড়া গুলি, দা ও লাঠির আঘাতে আহত ৪১ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে অর্ধশতাধিক চিকিৎসাধীন আছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় একটি অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক এস হোসেন আকাশ সংবাদ সংগ্রহের সময় আহত হয়েছেন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল রোববার দুপুরে শহরের পুরান থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা মিছিল বের করেন। মিছিলে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিয়াসহ দলটির কয়েকজনকে দেখা গেছে। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। আন্দোলনকারীদের মিছিলটি আওয়ামী লীগ অফিসের কাছে যেতেই দু’পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পিছু হটলে উত্তেজিত জনতা আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের অদূরে আওয়ামী লীগ নেতা আশফাকুল ইসলামের বাসা থেকে মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ায় ওই বাসায় গিয়ে তারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ যুক্ত হলে এটি ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ বিপুল পরিমাণ টিয়ার গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
সংঘর্ষের সময় হামলাকারীরা শহরের প্রধান প্রধান সড়কের অধিকাংশ সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে। রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা বিভিন্ন মানুষের অন্তত ২০টি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দিয়েছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান সাজুর বুকে পাঁচটি ছররা গুলি লেগেছে।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তবে কতজন আহত হয়েছেন, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন হোসাইন ও সদর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা।
ইটনা উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুল হাসানের পুরান থানা এলাকার বাসায় হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছোট ভাই লিমন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি হতাহতের কোনো খবর নিতে পারছেন না বলে জানান।
নেতাকর্মীর হতাহতের খবর জানাতে পারেননি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামও।
বাজিতপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সকালে সরারচর বাজারে সাতটি মোটরসাইকেল ও বাজিতপুরে দুটি বাসে আগুন দেয়। দুপুরে বাজিতপুর বাজারের গণনাট্যদল নামে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ২০ জনকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
- বিষয় :
- হামলা
- আহত
- নিহত
- কোটা সংস্কার আন্দোলন